
দক্ষিণ দিনাজপুর: সোনা কংগ্রেসে যোগদান করতেই হরিরামপুরে নি:শেষ তৃণমূল কংগ্রেস বলে হুঙ্কার কংগ্রেস নেতৃত্বের, বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না পালটা দাবী তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একাধিক বিধানসভা আসনের সমীকরণ। তারই মাঝে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিস্কৃত হরিরামপুরের শুভাশিস পাল ওরফে সোনা। শুক্রবার বালুরঘাটে জাতীয় কংগ্রেসের সভা মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি গোপাল দেব-এর উপস্থিতিতে সোনা পাল জাতীয় কংগ্রেসের দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন। এদিন সোনা পাল-এর সঙ্গে শ'য়ে শ'য়ে মানুষ জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ যে, একদা জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকা সোনা পাল ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালা বদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এর পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে বহিস্কৃত হন। এক সময় বিজেপিতেও তিনি যোগদান করেন। যদিও এরপরে তিনি আর তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরেননি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রাজনীতির অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায় সোনা পাল-এর সঙ্গে মন্ত্রী তথা হরিরামপুরের বিধায়ক বিপ্লব মিত্র-র বিরোধের কথা। এদিন কংগ্রেসে যোগদানের দিন কয়েক আগে থেকেই সোনা পাল রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র-কে নিশানায় রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিলেন। কংগ্রেসে যোগদান করে সোনা পাল জানান হরিরামপুর বিধানসভা এলাকার শতাধিক মানুষ সহ তিনি আবার তার পুরোনো দল জাতীয় কংগ্রেসে ফিরে এলেন। সোনা পাল-এর কংগ্রেসে যোগদানের পরে উজ্জীবিত দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কংগ্রেস নেতৃত্ব। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি গোপাল দেব দাবী করে বলেন তৃণমূল কংগ্রেস হরিরামপুর থেকে নি:শেষ হয়ে গেল। তিনি আরও বলেন হরিরামপুরের মানুষ চাইছে যাকে তাকেই আমরা প্রার্থী করব। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৬টি আসনেই যে জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী দিতে চলেছে তাও সংবাদমাধ্যমকে জানান তিনি। অপরদিকে সোনা পাল-এর কংগ্রেসে যোগদানে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না বলে পাল্টা দাবী করেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি প্রীতম রাম মন্ডল। প্রীতম রাম মন্ডল-এর বক্তব্য ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সোনা পাল বিজেপিতে যোগদান করেছিল, উনি আবার বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে দলবদল করেছেন, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন প্রভাব পড়বে না। উনার বক্তব্য মানুষের আস্থা ভরসা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি। যদিও জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন সোনা পাল-এর কংগ্রেসে যোগদানের প্রভাব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হরিরামপুর বিধানসভা আসনে পড়তে পারে। তাদের মতে হরিরামপুর বিধানসভার একাধিক এলাকায় সোনা পাল-এর নিয়মিত জনসংযোগ রয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে সোনা পাল কংগ্রেসে যোগদান করতেই হরিরামপুর বিধানসভা আসনে ভোটের সমীকরণ নিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
Total Post View : 19776