
বর্ণালী রায়, দক্ষিণ দিনাজপুর: দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডির জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক মোদী, মোদী-র নিশানায় তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে একবার সূযোগ দেওয়ার আবেদন মোদী-র। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারির পাশাপাশি একাধিক আশ্বাসও শোনালেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গকে বৈভবশালী করে তোলার লক্ষ্যে বিজেপি ময়দানে নেমেছে বলেও দাবি করেন মোদী। শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডির খাগড়াকুড়িতে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করেন মোদী। পূর্ব বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে সভা সেরে হেলিকপ্টারে সেখানে পৌঁছন তিনি। বক্তব্যের শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সুরে শাসকদলকে বিঁধতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, একদিকে তৃণমূলের ভয়, অন্যদিকে বিজেপির ভরসা—এই লড়াই ভয়কে পরাজিত করার লড়াই। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও লুঠের রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তৃণমূলের মিথ্যা ও লুঠের দোকান বন্ধ হতে চলেছে। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদীর মন্তব্য, তৃণমূল একটাই মডেল উন্নত করেছে— এখানে সরকার-ই সিন্ডিকেট। পাশাপাশি, বাংলার বাইরে নির্বাচনে তৃণমূলের জয়লাভ না করা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। মোদী-র দাবি, টিমসি-র কোনও বিচার নেই - ভিশন নেই, তৃণমূল কংগ্রেসের মাস্টারি - পিএইডি গুন্ডামিতে। এই ধরনের নেতৃত্বের হাতে রাজ্য চালানোর অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন মোদী নিজের বক্তব্যে আলোকপাত করেছেন নারী সুরক্ষা ও মহিলাদের অগ্রগতি বিষয়ে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ব্লক স্তরে মহিলা থানা গড়ে তোলা এবং পুলিশে মহিলাদের নিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি। বিহারের সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, সেখানে মহিলা পুলিশ কর্মী ২৩-২৪ শতাংশ হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা মাত্র ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি—“অপরাধীদের কেউ রেহাই পাবে না।” শিক্ষা ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন মোদী। দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর অভাব, অতিথি শিক্ষকদের স্বল্প পারিশ্রমিক এবং শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যখন দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় এগোচ্ছে, তখন এখানে যুবদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। “এনাফ ইস এনাফ” মন্তব্য করে বদলের ডাকও দেন তিনি। আদিবাসী সমাজ নিয়েও শাসকদলকে কাঠগড়ায় তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপি আদিবাসীদের সম্মান করে, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস আদিবাসীদের অপমান করে। উত্তরবঙ্গে সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে রাজ্য আধিকারিকদের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। আদিবাসী উন্নয়নে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন।জনসভা জুড়ে একাধিকবার ‘মোদী-মোদী’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সভা দক্ষিণ দিনাজপুরে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Total Post View : 56149